২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
কামাল উদ্দিন সিকদারের জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগের মিলাদ মাহফিল মুজিব শতবর্ষে সূত্রাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগের নির্দেশে ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বৃক্ষ রোপন কর্মসুচী আ’লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিনের করোনা মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী ও জেলা ছাত্রলীগের সাঃসম্পাদকের জন্য বিভিন্ন মসজিদে পৌর ছাত্রলীগ নেতা হিমেলের মিলাদ মাহফিল হারানো শারমিন কে উদ্ধার করে বাবা মা এর হাতে ফিরিয়ে দিলো ছাত্রলীগ নেতা সামসুল হক-এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী সহ সকলের সুস্থতা কামনায় কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগ এর মিলাদ মাহফিল

সামসুল হক-এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করা গাজীপুর জেলার দুই কৃতি সন্তান তাজউদ্দীন আহমেদ এবং সামসুল হক। দুজনেই ছিলেন পরম সুহৃদ। সামসুল হক (১৯২৭-১৯৯৮) কালিয়াকৈরের একজন কৃতি সন্তান। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণের কারণে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দী রাখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনিই প্রথম কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ছাত্রনেতা ছিলেন। ১৯৫২-৫৩ সালে তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে ছাত্র সংসদের ভি.পি. (সহ-সভাপতি) পদে রেকর্ড পরিমান ভোটে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি (১৯৫৩), ঢাকা সদর উত্তর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৫৬), ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৫৮-১৯৭২), তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কার্য-নির্বাহী কমিটির সদস্য (১৯৫৭-১৯৭২), নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক (১৯৭০-১৯৭১) হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (Member of Provincial Assembly) নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জনাব আতাউর রহমান খানের রাজনৈতিক সচিব (Political Secretary) নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাঙ্গালীর মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে প্রথম সারির একজন নেতা হিসেবে
বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন এবং এ কারণে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। অতঃপর তিনি ১৯৬৭ সালে মুক্তি লাভ করেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতি নির্ধারক হিসেবে কাজ করেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে পুনরায় জাতীয় পরিষদের সদস্য (Member of National Assembly) নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টে ১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানী সামরিক জান্তা কর্তৃক ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের ষড়যন্ত্রমূলক উপায়ে নিরস্রীকরণের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু হলে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুজিবনগর সরকারের অধীনে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মুজিবনগর সরকারের পক্ষে নয়াদিল্লীর সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

সামসুল হক ১৯৭৩ সালে পূনরায় তৎকালীন ঢাকা-১৬ (কালিয়াকৈর-শ্রীপুর) আসন থেকে তৃতীয় বারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (১৯৭২-১৯৭৩) এবং পাটমন্ত্রী (১৯৭৩-১৯৭৪) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৫ সালে তাঁকে সোভিয়েত ইউনিয়নের (একই সাথে মঙ্গোলিয়া) রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেন এবং রাষ্ট্রদূত থাকা কালেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং বিচার দাবি করেন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন।

সামসুল হক ১৯৫৭ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট (বর্তমানে সিন্ডিকেট) এর সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড ও বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড এর পরিচালক; বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি; ইউনাইটেড টাউন অরগানাইজেশন বাংলাদেশ শাখার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং একই সংস্থার আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি নিজে উড ব্যাজধারী স্কাউট ছিলেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় স্কাউট এসোসিয়েশনের সদস্য এবং ঢাকা আঞ্চলিক স্কাউট এসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একজন দক্ষ শুটার ও কৃতি ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম ডাক ছিল। তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন।

নির্লোভ, প্রচার বিমুখ এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী কালিয়াকৈরের এই গুণী ব্যক্তিটি নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অপরিচিত। কালিয়াকৈরের বয়োজ্যেষ্ঠ অনেকের কাছে আমি নিজে সামসুল হক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। দলমত নির্বিশেষে সকলেই তাঁকে সম্মানের সাথে সম্বোধন করেছে, স্মরণ করেছে। ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ৪০, ৬৮, ১১৩, ১৩৭, ২০২ এবং ২৪৯ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু সামসুল হক সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা লিখেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি অসুস্থ থাকা অবস্থায় আমি তৎকালীন পিজি হসপিটালে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম, কথা বলেছি। তার কিছুদিন পরেই ১৬ই জুন তিনি ইন্তেকাল করেন। এভাবেই গুণীজনেরা চলে যায়, যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায় তাঁদের অসামান্য অবদান। এই বছরের প্রথম দিকে কালিয়াকৈরের উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার সাথে কথা বলার সময় কথা প্রসঙ্গে তিনি আমার কাছ থেকে সামসুল হক সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন, সরকার থেকে তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে কি হয়েছে জানি না। যাইহোক, তাঁর দল এবং পরিবারের উচিত তাঁর অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন পূর্বক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত সামসুল হকের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

আপনি কি আমাদের কাছে লেখা পাঠাতে চান?
তাহলে মেইল করুনঃ [email protected]



সম্পাদক ও প্রকাশক-
বার্তা সম্পাদক-
মোবাইল-
মেইল- [email protected]
অফিস- সফিপুর, কালিয়াকৈর, গাজীপুর। 

Developed by: softbird